বিচ্ছেদ

কিছু লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন  আপনাদের বিচ্ছেদ নিশ্চিত :

বিচ্ছেদ :

বিচ্ছেদ শব্দের অর্থ হলো আলাদা হওয়া বা পৃথক হওয়া। এটি সাধারণত দুটি ব্যক্তি, বস্তু বা ধারণার মধ্যে সম্পর্কের শেষ হওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

আমরা যদি ব্যাক্তির মধ্যে বিচ্ছেদ কে বুঝি তা হল বিবাহ সম্পর্কিত  দাম্পত্য সম্পর্ক কে বুঝি।কেননা দাম্পত্য সম্পর্ক  এগিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত দুই পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালাতে হয়। আবার দাম্পত্যে নিজের সেরাটা ঢেলে দেওয়ার পরও আপনার মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, আমাদের সম্পর্ক কি ঠিক পথে এগোচ্ছে? কিছু লক্ষণ দেখে বুঝে যাবেন, সম্পর্কের একমাত্র পরিণতি বিচ্ছেদ। 

তাহলে যেনে নেওয়া যাক লক্ষণ গুলো 

. প্রবাস জীবন ও দূরত্ব

অনেক স্বামী দীর্ঘদিন বিদেশে থাকেন, যার ফলে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী একাকীত্বে ভুগতে থাকেন এবং অবিশ্বাস জন্ম নেয়, যা বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যায়।

এছাড়া একজন নারী বিবাহিত জীবনে তার স্বামীকে প্রাধান্য বেশি দেয়। সেই জায়গায় তার একাকিত্ব জীবনের অবসান ঘটিয়ে যখন বিবাহিত জীবনে যায়, তখন প্রবাসী স্বামী হলে তার বিবাহিত জীবনে ব্যার্থ।সে বিয়ের আগেও একা ছিল, বিয়ের পরও একা থাকতে হয়।স্বামীর সাথে ২ বছর পর ৩ মাস কাটায়, ১০ বছর বিবাহিত জীবনে সে স্বামীর সাথে কাটাতে পারবে মাত্র ১ বছর বা তারও কম।ভেবে দেখেন একটা মেয়ে তার জীবনের সব কিছু বিসর্জন দিয়ে মাত্র ১২ মাস স্বামীকে কাছে পাই।তাই বেশিরভাগ নারী এইটাই ভেবে নেই লাইফে ১২ মাস সেটা কোনো সময় না ১০ বছরের কাছে।১০ বছর একা থাকতে পারলে সারাজীবন ও একা কাটিয়ে দেওয়া যায়।কারণ তারা একাকিত্ব টা কে সংগী হিসেবে মেনে নিয়েছে।তাই ডিভোর্স এর হার বেশি।

. অর্থনৈতিক সমস্যা

বেকারত্ব, পর্যাপ্ত আয় না থাকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক বিষয়ে মতবিরোধ বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। অনেক সময় স্বামীর দায়িত্বহীনতা বা স্ত্রীর চাকরি করা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।


৩. মানসিক চাপ ও হতাশা

অনেক সময় দেখা

প্রবাসীর স্ত্রীরা সবসময় একাকীত্ব ভোগে। তাদের স্বামী তাদের কে সময় দেয় না।

তারা তাদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, কারো কাছে মন খোলে কথা বলতে পারেনা।দিন শেষে তাদের অনুভূতি শিয়ার করতে পারেনা।তাদের মনের কষ্ট মনে চেপে রেখে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় তারা ভাবে বিবাহিত হয়েও যদি একমাত্র জীবন সংগীকে মনের অবস্থা বুঝাতে না পারি,আর বিবাহিত জীবনে জীবন সংগীর দরকার নেই।তাই তারা মানসিক চাপ নেই।এছাড়া স্বামী আজীবন প্রবাসে কাটাবে স্ত্রী সারাজীবন একাকীত্ব কাটাবে এইভেবে হতাশায় ভোগে।

তাই প্রত্যেক অভিভাবকদের উচিত তাদের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার আগে তার জীবনের সুখের দিক বিবেচনা করে ছেলেটা কতটুকু স্বাবলম্বী সেটা মাথায় রেখে বিয়ে দেওয়া।উপরের চাকচিক্য এরদিকে না দেখে অভ্যন্তরীণ দেখে বিয়ে দেওয়া।

বিবাহ হল লটারি যেতার মত, কারো পোষ মাস, আবার কারো সর্বনাশ। আর সেই সর্বনাশ ঘটে শুধুমাত্র সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত এর কারনে। তাই বিয়ের হ্মেত্রে অন্তত একটু সাবধান হলে ছেলে বা মেয়ে কারো জীবনের বিচ্ছেদের কালিমা লাগেনা

৪. পরকীয়া ও বিশ্বাসঘাতকতা

বিবাহিত জীবনে বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে অনেক সম্পর্ক অবিশ্বাসের জায়গায় চলে যাচ্ছে। স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক দাম্পত্য জীবনের ভাঙনের অন্যতম কারণ।স্বামী স্ত্রীকে সময় না দিয়ে অন্য নারীর দিকে আসক্ত। ফলে স্ত্রী একাকীত্ব অনুভব করে। সেই একাকীত্ব দূর করতে পরক্রিয়ায় জডিত হচ্ছে।


উপসংহার

বিবাহ বিচ্ছেদ কখনোই সহজ সিদ্ধান্ত নয়, তবে কখনো কখনো এটি একটি সুস্থ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের একমাত্র উপায় হতে পারে। বিচ্ছেদের পর জীবন থেমে যায় না, বরং এটি একটি নতুন সুযোগ হতে পারে নিজেকে ভালোভাবে গড়ে তোলার। সঠিক আইনি ব্যবস্থা, মানসিক শক্তি ও সামাজিক সমর্থন পেলে বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনও সুন্দর হতে পারে।

আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না! আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ কমানোর জন্য কী করা উচিত? কমেন্টে জানান!



Comments

Popular posts from this blog

ভারি বৃষ্টিতে দুর্ভিসহ চট্টগ্রাম এর জন জীবন