আসুন বিয়েকে সহজ করি
চট্টগ্রামের বিয়ে
বিয়ে হল একজন ছেলে ও ১ জন মেয়ের ইসলামি শরিয়তের বিধি মেনে সৃকৃতি প্রাপ্ত মেলামেশার সম্পর্ক। যার কোনো অপরাধ নই।
বর্তমান সমাজের বিয়ের চিত্র
মেয়ে পহ্ম
ছেলে পহ্ম মেয়ে পহ্মে থেকে বর যাত্রী খাওয়ানোর নাম করে ৫০০-১০০০ জনের টাকা আদায় বাবদ ১ লহ্ম বা ২ লহ্ম দাবি করে।এছাড়া ও যাদের ঘরে ফার্নিচার নাই তারা সকল আসবাবপত্র চাই।আর যাদের গরে আছে তারা ফার্নিচারের বাবদ ১-২ লহ্ম টাকা দাবি করে।এই হল সাধারণ বেসিক চাওয়া।আরও আছে,তা হল বিয়ের দিন বরের বোনের জামা যে কয়জন থাকবে তাদেরকে আংটি দেওয়া, বরের সাথে যারা আসবে তাদের টাকা দেওয়া।এতে শেষ নই।বিয়ের দিন আবার বরের বাড়িতে খাবার দেওয়া বেশি করে যেন গ্রামের মানুষকে বিলিয়ে দিতে পারে।এইভাবে শুধু বিয়ের দিন পর্যন্ত ৮-৯ লহ্ম টাকা খরচ করতে হয় মেয়ে পহ্মকে।
অবাক হচ্ছেন!এই গেলো মেয়ের পহ্মের কথা।এখনো ছেলের পহ্মের কথা বাকি আছে।
ছেলে পহ্ম
শুধু যে মেয়ের দিক থেকে বিয়ে জটিল তা নয়, ছেলের পহ্মেও বিয়ে জটিল।যেমন ছেলে বিয়ে করতে গেলে তাকে ৫-১০ ভরি স্বর্ন অলংকার দিতে হয় মেয়েকে।আরও দিতে হয় ৫০ হাজার থেকে ১০০০০০ লহ্ম টাকার সাজানি বাবদ দিতে হয়।এইসব দেওয়ার মত যে ছেলের সামর্থ আছে সেই ছেলে বিয়ে করতে পারবে, পারছেও। আর যে ছেলের মাসে উপার্জন ১৫-২০ হাজার টাকা সেই ছেলের কি সামর্থ আছে? নেই সেই ছেলের বিয়ে করার মত সামর্থ নেই। কিভাবে থাকবে আগে স্বর্নের ভরি ৪০-৫০ হাজার ছিল তখন ৫ ভরি সমস্যা নাই। আর বর্তমানে স্বর্নের ভরি লহ্ম টাকা তাতে ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনের ছেলের পহ্মে কি ১০-১২ লহ্ম টাকা খরচ করে বিয়ে করা সম্ভব? সম্ভব না।তাই আমাদের সমাজে বিয়ে করা কঠিন হয়ে উঠছে।এতেই শেষ নই।
বিয়ের পরের পর্ব
শুধু বিয়ে শেষ নই,বিয়ের পর বর আর বউয়ের পহ্মে আরেক বিয়ের খরচ পোহাতে হয়।যেমন বাংলাদেশের ফগ্রীষ্মের দিনে সকল প্রকার ফল,সবে বরাতে রুটি হালুয়া,সবে কদ্বরে মুরগ ফোলাও,ঈদে গোস্টি শুদ্ব সবার জন্য কাপড় ছোপড়, কুরবানির সময় আস্ত গরু পাঠাতে হয় মেয়ে পহ্ম ছেলের বাড়িতে। বলতে গেলে বিয়ের পর আরও ১ -২ লহ্ম টাকা হাতে রাখতে হয় মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর।ছেলেরেও কিছু দিতে হয়না তা নই।তবে ছেলে পহ্ম বিয়ের পর দেয়না বললেও চলে।এরা শুধু মেয়ের পহ্মের গুলো কে খাওয়ানো বিয়ের পরের দিন।আর ঈদের কাপড় চোপড়া দেওয়া বাস শেষ।
মানুষের কত টুকু অকৃতজ্ঞতা
এতেও শেষ না।বাচ্চা হলে মেয়ে পহ্মকে সেই বাচ্চা জন্ম হওয়ার আগে বাপের বাড়িতে পাটিয়ে দেয়।সেই বাচ্চা জন্ম হওয়া বাবদ যেমন সিজার খরচ থেকে সেই বাচ্চার নাম রাখতে হয়।মানুষের মধ্যে কতটুকু অকৃতজ্ঞতা থাকলে নিজেদের সন্তানকে অন্যের বাড়িতে অন্যের আশায় পাটিয়ে দেয়। আর মেয়ে পহ্ম মেয়ের জন্ম দেওয়ার অপরাধে মুখবুঝে সয়ে যায়।
আসুন বিয়েকে সহজ করি
যে ছেলে বউকে রাখার মত ১ টা খাট,বউয়ের জিনিস রাখার জন্য ১ টা আলমিরা, বলতে গেলে বউকে রাখার মত আসবাব পত্র যা লাগে তা দিতে পারবেনা এমন ছেলের তো বিয়ে করার দরকারও নাই।আর বউয়ের জন্য মেয়ের বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে কেন দিতে হবে?এদের ঘরের মানুষ গুলো কি আগে গাছ তলায় থাকত?এইসব কে কেন্দ্র করে বিয়েকে কঠিন করে ফেলছে বর্তমান সমাজে।মেয়ের পহ্ম আর ছেলের পহ্ম মানবিক হলে উভয়ের জন্য বিয়ে সহজ হবে।ছেলের পহ্ম থেকে কেন বেশি দাবি করবে আর মেয়ে পহ্ম থেকেই বা বেশি দাবি করবে? কেউ নিবেও না কেউ দিবেও না। আরে ভাই কি দরকার মেয়ে পহ্ম থেকে ফকিরের মত ছেয়ে নিয়ে ৫০০ -১০০০ মানুষকে খাওয়াচ্ছেন? এতে কি লাভ বাহাবা নেওয়া অন্যের টাকায় ফুটানি দেখানো। আর ছেলের কাছ থেকে ৫ ভরি ১০ ভরি গহনা নেওয়া,কাবিন লোক দেখানো বসানো? এক পহ্ম যদি না নেন অন্য পহ্ম কোওপারেটিভ হওন।এতে বিয়ে সহজ হবে। এইসব না করে বিয়ে টাকে ছেলে মেয়ের উভয়ের পহ্মের জন্য সহজ করুন । আপনি নিচ্ছেন ছেলে পহ্ম হয়ে,অল্প দিনের ব্যবধানে আপনিও মেয়ে পহ্ম হবেন।পালাবদল হবেই। আসুন আমরা বিয়েকে সহজ করি।
Comments
Post a Comment