কোরবানির উপহার
নতুন শ্বশুর বাড়িতে কোরবানির উপহার
পরিস্কার নির্দেশনা হলো, যাদের সামর্থ্য আছে কুরবানি একমাত্র তাদের জন্যই প্রযোজ্য। আর যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের কুরবানি করা জরুরি নয়। তাই এই উপহার দেওয়া না দেয়ায় কিছু আসে যায় না। অন্যের উপহারে কারো উপর ওয়াজিব হওয়া কুরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা অনেকটা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি খয়রাতে হজ করার মতো।
যার গরু ছাগল কেনার সামর্থ্য নেই সে হাঁস মুরগী খেতে পারে। নইলে বাজার হতে খোলা মাংস কিনতে পারে। অথবা যারা কুরবানি করেছে তাদের কাছ থেকে উপহার বা হক হিসেবে নিতে পারে। শ্বশুরবাড়ির টাকায় কেন পায়ের উপর পা তুলে আয়েশ করে পরোটা মাংস চিবাতে হবে? এটাও এক ধরনের যৌতুক, এবং ইসলামী কালচারে বর্জনীয়। আমরা বাঙালি মুসলিমরা সত্যিকার ইসলাম চর্চা হতে বহু বহু দূরে। মেয়ের ফ্যামিলি হতে যত কিছু ফ্রি পাওয়া যায় ততই আমাদের দাঁতের পাটি চওড়া হতে থাকে। ফ্রি পেতে কে না ভালবাসে।
চট্টগ্রাম এর মেয়ের বাড়িতে উপহার নামে অসুস্থ সংস্কৃতি
কাউকে দেখি ধারকর্জ করে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসব গরু ছাগল উপঢৌকন পাঠাতে। নইলে মেয়েকে অনেক আজেবাজে কথাবার্তা শুনতে হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে শারীরিক নির্যাতনও হয়ে থাকে। পরিবারের গন্ডিতেই তুলনা দিয়ে বলা হয়, অমুক বউয়ের বাপেরবাড়ি হতে তো ঠিকই বড় গরু পাঠিয়েছে। আমাদের আর কাউকে মুখ দেখানোর উপায় রইল না।
আবার কিছুসংখ্যক মেয়েকেও দেখা যায় অগ্রবর্তী হয়ে বাবা মায়ের কাছ থেকে এসব গরু ছাগল উপহার নিতে। এরা বিয়েতেও নিজ বাবাকে অপব্যয় করানোতে অগ্রণী ভূমিকা নেয়। যদিও এজন্য মেয়ের বাবা মায়েদেরও কিছুটা দায় আছে। বেশিরভাগ পরিবার মেয়েদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয় না। তাই এসব মেয়েরা অন্যভাবে আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করে। আবার অনেক মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য হলেও নিজ বাবা মায়ের উপর চাপ প্রয়োগ করে।
Comments
Post a Comment